Entrepreneur

গল্পে গল্পে বিশ্বস্ত উদ্যোক্তাদের পরিচিতি- পর্ব : 01

SM ALAMGIR

পর্ব : 01

________________

গল্পে গল্পে বিশ্বস্ত উদ্যোক্তাদের পরিচিতি- পর্ব : 01

.

মাথা টা বড্ড ভারি ভারি লাগছে। অনেকেই বলছে- মনে হয় তোর ঠান্ডা লাগবে। কপালের দু’পাশেও ব্যাথা করতেছে। কি করবো বুঝতে পারছি না। আমার হোমমিনিস্টার (স্ত্রী) কে বিষয়টি বলবো – তাও সাহস পাচ্ছি না। কারণ গত সপ্তাহ থেকে আমাকে  বলতেছে পাকিস্তানী থ্রি-পিস কিনে দিতে হবে। বেতন পাইনি, কাছেও টাকাও নেই। করোনার জন্য ব্যবসা-বাণিজ্যও তেমন আগের মতো ভালো চলছে না। তার মধ্যে বর্তমান বাজারের যে দাম।

মাস শেষ হতে না হতেই- বাড়িওয়ালার আনা-গুনা শুনা যায়, বিদ্যুৎ বিল, ময়লার বিল, পানির বিল, নেট বিল, ডিস বিল, মুদি দোকানের বিল এরকম হাজারও বিলের নাম কানের কাছে এডিস মশার মতো বুন বুন করতে থাকে। এসব ভাবতেই মাথাটা কেমন জানি ধরে বসে। বুকের ভিতরও চিন চিন করে ব্যাথা করে। সবাই তো আর বুকের ব্যাথা বুঝে না, সবাই বলে গ্যাস্টিক হয়েছে।

কথা শুনেই হাসি দিলেন। সত্যি বলতে কি- কেউ আমাকে চিনলো না। যাই হোক, ডা. কানিজ ফাতিমা আপুর কাছ থেকে এক ডুজ ঔষধ খেয়ে শুয়ে পড়বো। বিছানায় গিয়ে দেখি, বিছানার চাদর নেই। কিছু বলতেও পারছিনা, রাগে তো হোমমিনিস্টার আমার সাথে কথা বলাও বাদ দিয়েছে। তার এক কথা পাকিস্তানী থ্রি-পিস কিনে না দিলে সে কথা বলবে না। আলমারিতে বিছানার চাদর খুঁজতে গিয়ে দেখি, সেখানে কোন বিছানার চাদর নেই। ছোট মেয়ে বললো, আম্মু আজকে তোমাকে শুতে দিবে না বলে, বিকালেই বিছানার চাদর ভিজিয়ে রাখছে। ………লেও ঠেলা………

 

 

আমার কষ্টের কথা শুনে আবারও হাসলেন। আপনাদের হাসার সময়। হাসুন। মন ভরে হাসুন। এদিকে মাথার ব্যাথায় শরির ঝিম ঝিম করছে। এখন আপনারা বলবেন….“আহারে…” । থাক, আর সহানুভুতি দেখাতে হবে না। শোয়ার একটা ব্যবস্থা করতে হবে। বসে বসে ভাবতে থাকলাম কি করা যায়………

তরিগরি করে, মোবাইলটা হাতে নিয়ে গুগলে গিয়ে সার্চ করলাম… “ www.trustmarketbd.com ” . Trust Market নামে  একটি ই-কমার্স ওয়েবসাইট আসলো। সেখানে চাদর লিখে সার্চ করলাম। দেখি (১)  Nusrat Jahan নামে এক আপুর অনেক গুলো বিছানার চাদর দেখা যায়। এই ওয়েবসাইটে ভেন্ডর রেজিঃ করলে, বিক্রিতার ফেসবুক পেইজ দেখা যায়। আমি দেখলাম তার পেইজের নাম  ‘ ’ .

আমি তার পেইজে গিয়ে তাকে নক করলাম। নক করার সাথে সাথে বান্দা হাজির। বললাম  : আপু, আর্জেন্ট এই চাদরটা আমার লাগবে। রাত তখন 9 টা বাজে। আপু বললো ঠিকানা দিন। আমি তার দেওয়া বিকাশ নাম্বারে টাকা পাঠিয়ে দিলাম। ঘন্টা খানেক পর আপুর ডেলিভারি ম্যান এসে চাদর দিয়ে গেল। চাদরটা অনেক সুন্দর ছিল, যেমন অর্ডার করেছিলাম। ঠিক তেমনি দিয়েছে। আপুকে ধন্যবাদ দিয়ে একটি মেসেস দিলাম।চাদরটা বিছানায় রাখতে ঈগলের মত ছুঁ মেরে নিয়ে গেল, তার এক কথা পাকিস্তানী থ্রি-পিস আমার চাই চাই। ……লেও…..ঠেলা……।

 

 

বাধ্য হয়ে পাকিস্তানে মেসেস করলাম,

বললাম,  میں یہ تین ٹکڑا چاہوں گا  (আমি এই থ্রি-পিসটি চাই)।

সে বললো : آپ کا گھر کہاں ہے؟ (আপনার বাসা কোথায়)।

বললাম : Bangladesh.

এটা শুনে সে যা বলল, তা শুনে আমি তো অবাক……! সে বলবো

সে বললো :- بنگلہ دیش میں شیریں الماری ہے۔ تم اس سے تین ٹکڑے لے لو۔ وہ ہمارا اصلی ایجنٹ ہے۔ (বাংলাদেশে Shirin Closet আছে । আপনি তার কাছ থেকে থ্রি-পিস নেন। সে আমাদের আসল এজেন্ট।)

বললাম :  شکریہ  (ধন্যবাদ)। সেও আমাকে ধন্যবাদ দিলো।

কি আর করার, (২) শিরিন শিল্পী আপুকে মেসেস করলাম, আপু এই পাকিস্তানী থ্রি-পিসটা আছে ? মেসেস করার সাথে সাথে বান্দা হাজির। রিপ্লাই আসলো- আছে ভাইয়া। আপনার লাগলে অর্ডার কনফার্ম করুন। আমি অর্ডার কনফার্ম করে দিলাম। তখন রাত 10:30 বাজে। অর্ডার কনফার্ম করে স্কিন শর্ট দিয়ে আমার হোমমিনিস্টারকে দেখালাম। ততক্ষনে মনে হলো বরফ গলতে শুরু করেছে।

ততক্ষনে চোখে ঘুম ঘুম ভাব আসলো, ভাবলাম- চোখে একটু পানি দিয়ে আসি। চোখে পানি দিতে গিয়ে ভাবলাম একটি ফ্রেশওয়াশ হলে ভালো হতো। মুখটা ভালো করে ধুয়ে নিতে পারতাম। চোখে পানি না দিয়ে, আগে  (৩) Megh Na (মেঘনা) আপুকে মেসেস করলাম। বললাম আপু, আমার এই ফ্রেশওয়াশটা লাগবে। বাড়ি কাছে হওয়ায় 30 মিনিট পর প্রোডাক্ট হাতে পেয়ে টাকা পরিশোধ করলাম। যাক, এভার ভালো করে মুখ ধুতে পারবো।

চোখে মুখে পানি দিয়ে ফ্রেশওয়াশ দিয়ে ভালো করে মুখ পরিষ্কার করে রুমে এসে দেখি; নতুন চাদর বিছানায় সুন্দর করে বিছাইয়ে রাখছে। গামছা দিয়ে মুখ মুছে শুতে যাবো, দেখি মুখ শুধু টান টান করতেছে। মনে হয় একটু স্নো দিলে ভালো হতো। যে কথা সেই কাজ। (৪) আইরিন আক্তার তৃষ্ণা আপুর  Modern Beauties কাছাকাছি থাকায় থাইল্যান্ডের 4k Plus স্নো টি নিয়ে মুখে মাখিয়ে নিলাম। এবার মুখটা একদম ফ্রেশ লাগছে। আস্তে আস্তে শুয়ে পড়লাম।

 

           

[যে কেউ তাদের বিজনেস লগো স্পন্সর করতে পারবেন- 01716 216512]

.

.

পরদিন সকালে যথারীতি কার্যক্রম শেষে চা খাওয়ার জন্য হোমমিনিস্টারকে বললাম। এক কাপ চা দাও তো। বললো- চা নেই । (৫) তপন তিমির দাদাকে মেসেস করো। কি আর করার Timir’s Mart এর মেসেস করে 500 গ্রাম চা অর্ডার করলাম। সকালের নাস্তার বানানো কথা বললাম। বললো ঘি কিন্তু শেষের দিকে। এখনি (৬) সুপ্রীতি সাহা আপুকে মেসেস দিয়ে রাখো। যেন কালকেই 1 কেজি ঘি পাঠিয়ে দাও।  সুপ্রীতি সাহা আপুকে মেসেস করে ১ কেজি ঘি অর্ডার করে রাখলাম।

অফিসে যাওয়ার সময় হোমমিনিস্টার বলল : প্রতিদিন অফিস যাও; সুন্দর দেখে একটি ব্যাগ কিনতে পারো না ? ভাবলাম, সত্যিই একটি ব্যাগ কিনলে মন্দ হয়না। (৭) ইশরাক বিন খলীল ভাইকে মেসেস করলাম ।

বললাম : ভাই ; অফিশিয়াল একটি ব্যাগ হবে ?

বললো : হবে ভাই ।

কিছুক্ষণ সময় দর-কষাকষি করে, একটি ব্যাগ অর্ডার করলাম। সত্যি বলতে কি, জিনিস যেটা ভালো, দাও টাও তার একটু বেশি। ঘর থেকে বের হতে না হতেই পিছন থেকে এনাউন্স করে দিলো- আজ কিন্তু দুপুরে রান্না করবো না। বাহির থেকে খেয়ে নিও। ….. লে…. হালুয়া। 45 ডিগ্রি এ্যাঙ্গেলে পিছনে তাকিয়ে আবার অফিসের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম।

অফিসের যাওয়ার পথে ভাবলাম, বাহিরের খাবার ততটা স্বাস্থ্য সম্মত না,  সমস্যা হতে পারে, তাই  (৮) সুলতানা শিরিন আপুর নিকট দুপুরের খাবার অর্ডার করলাম। অফিসে গিয়ে শুনলাম, আগামী পরশু দিন অফিসে প্রোগ্রাম হবে। তাই জরুরি মিটিং ডেকেছে। প্রোগ্রামে আলোচনা হলো, সব মেয়েরাই  বেগুনী কালারের শাড়ী পড়ে আসবে। আর ছেলেরা কালো প্যান্ট ও সাদা পাঞ্জাবী পড়ে আসবে।

আমার এক সহকর্মী আমার কাছে এসে বললো ; আমার জন্য একটি শাড়ীর ব্যবস্থা করে দাও তো । আমি প্রথমে (9) Kbd Roy Sukla Das আপুকে জানালাম । আপু বলল : আমার কাছে পর্যাপ্ত বেগুনী কালারের শাড়ী নেই। যা আছে তাই দিতে পারবো। তারপর নক করলাম (১০) টাঙ্গাইলের মির্জা হাসান ভাইকে। এছাড়াও আমি (১১) শাহরিয়ার রাফি ভাইকে শাড়ির বিষয়টা জানালাম। শাড়ীর বিষয়ে এদের প্রচুর নাম ডাক রয়েছে। তিন জনের কালেকশনে সবগুলো সহকর্মীর শাড়ি সংগ্রহের ব্যবস্তা  হয়ে গেলো।

এদিকে সুলতানা শিরিন আপুর খাবার চলে আসছে, দুপুরে যে যার মতো লাঞ্চ করতে শুরু করলাম। সবাই খাওয়া বাদ দিয়ে আমার খাবারের দিকে তাকিয়ে আছে।

আমি বললাম: কোন সমস্যা….?

তারা কোন কথা বলল না, শুধু মাথা এদিক সেকি করলো। বুঝাতে চাইল, তাদের কোন সমস্যা নেই। আমি কিন্তু বিষয়টা বুঝতে পেরেছি। কিছু না বলে একগাল মুসকি হেসে নিজের মতো খেতে লাগলাম……………..!!!!

.

পর্ব : 02 অচিরেই দেখতে পাবেন। পর্ব : 02 দেখার জন্য অবশ্যই  কমেন্ট করুন এবং এই পোস্টটি শেয়ার করুন। আপনাদের কমেন্টের উপর নির্ভর করেই পর্ব : 02 লিখবো। 

.

[বি.দ্র : সবাই কমেন্ট করে এবং শেয়ার করে উৎসাহ না দিলে, পর্ব : 02 লিখবো না।]

.

.

.

 সব শেষে আপনাকে বিনীত ভাবে অনুরোধ করছি ,  আমাদের এই ছোট্ট উদ্যোগটি  আপনাদের যদি ভালো লাগে তবে সর্বদা আমাদের পাশে থেকে আমাদের সাহস বাড়াতে পোস্ট গুলোতে লাইক, কমেন্ট এবং শেয়ার করে আমাদের কাজের স্পৃহা আরো বাড়িয়ে দিতে আপনারা বিশেষ ভূমিকা রাখবেন এবং সেই সাথে আপনার একটি শেয়ার হয়তো আপনার নিকটস্থ কারো জন্য একটি নতুন দরজা খুলে দিতে পারে । সেই আশা বাদ ব্যক্ত করে সবাইকে আবারো ধন্যবাদ দিয়ে বিদায় নিচ্ছি।  আজ এ পর্যন্ত । সবাই ভালো থাকুন সুস্থ্য থাকুন। দেখা হবে পরবর্তী নতুন কোন আর্টিকেলে।  আল্লাহ হাফেজ।

.

.

.

আমাদের আরো পপুলার আর্টিকেল

 

12 Comments

    1. খুব মজা পাইলাম
      অনেক সুন্দর উপস্থাপনা

  1. পুরাটা পরলাম। চমৎকার উপস্থাপনা ভাইয়া। সবার কাজ ও নাম খুব সুন্দর ভাবে লিখেছেন। তবে প্রতিটি নামের পর মনে হচ্ছিলো যেন এই আমার নামে কিছু থাকবে। কিন্তু না ।

    চলিয়ে যান লিখনি খুব ভালো হয়েছে

  2. দারুন লাগল গল্পের মাধ্যমে উদ্যোকতাদের পরিচিতি।

  3. খুব সুন্দর লিখেছেন ভাইয়া। শেয়ার করলাম

  4. এই লিখাটির দ্বারা আপনার অন্য রকম একটি ক্রিয়েটিভিটি প্রকাশ পেলো। খুব ভালো লাগছে আমার কাছে

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Related Articles

Back to top button
error: Alert: Content is protected !!