Digital Marketing

বিক্রয় বৃদ্ধির কিছু কার্যকরী উপায় সমূহ যা উদ্যোক্তাদের জানা জরুরী

মোঃ আলমগীর হোসাইন

বিক্রয় বৃদ্ধির কিছু কার্যকরী উপায় সমূহ

 

এখন আমার একটি জিনিস দেখে খুব ভালো লাগে যে, ফেসবুকে অনেকেই ব্যবসা করছে। অনেক টি-শার্ট বিক্রি করছে, অনেকেই ঘড়ি, থ্রি-পিস, ব্যাগ বিক্রি করছে । অনেকেই আবার নিজেদের বানানো খাবার বিক্রয় করছে। Cookies, Cakes অনেক কিছুই বিক্রয় করছে। এবং এই বিষয়টা এতো Amazing যা কল্পনার বাহিরে। কারণ হলো যারা এই বিজনেস করছেন, তারা এই ব্যবসা করে যা শিখবে, তা BBA, MBA করেও শিখা যায় না।

এবং তার থেকেও মজার বিষয় হলো,  আমি যখন দেখি খুবই ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা এই কাজটা করছে। স্কুলে পড়ে, কলেজে পড়ে, ইউনিভার্সিটিতে নতুন নতুন ভর্তি হয়েছে, ক্লাস বন্ধ ছিল, ব্যবসা করছে। এক কথা Fantastic .

সুতরাং আমি এটাকে আরো বেশি বেশি  অভিনন্দন জানাই, এবং  In Fact আমি এটাকে আরো Encourage করছি, যারা হয়তো ব্যবসা করার কথা চিন্তা করছেন, তারাও যেন এটা  করেন এবং আশে পাশে যে মানুষ জন আছে, তাদেরকে একটু রিকুয়েস্ট করতে চাই, প্লিজ এই মানুষ গুলোকে একটু হেল্প করেন, তাদেরকে একটু সহযোগিতা করেন, তার থেকে কিছু একটা কিনেন, এটাই তার জন্য হেল্পলাইন।

যারা ব্যবসা করছেন, তাদের জন্য আমার কিছু এডভাইজ আছে, নিজেও একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী হিসেবে, কিছু বিষয়ে আমি নিজেও কিছু হোঁচট খেয়েছি , যে গুলো এখন আমি আপনাদেরকে জানাতে চাই।  যে কাজটা ফেসবুকে ব্যবসা করাতে একটু হলেও আপনাকে সহযোগিতা করবে। ইনশা আল্লাহ।

বর্তমান যুগ ডিজিটালের যুগ। এ যুগে যখন আপনার কাছে একটি পণ্য বা সার্ভিস থাকবে এবং সেবা দেওয়ার ক্ষমতা থাকবে তখনই আপনি পণ্যটি বিক্রয় করার ক্ষমতা রাখেন। আর একটি প্রতিষ্ঠানের মুনাফাই উঠে আসে তার বিক্রিত পণ্য থেকে। একটি প্রতিষ্ঠানকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য মুনাফা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আর এই মুনাফা বৃদ্ধি করার জন্য অবশ্যই আপনাকে বিক্রয় বৃদ্ধি করতে হবে । আর বিক্রয় বৃদ্ধি সহজ কোন কথা নয় ।  আধুনিক যুগের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে অবশ্যই আপনাকে নতুন নতুন কৌশল জানতে হবে শিখতে হবে। আজকে আমরা জানবো বিক্রয় বৃদ্ধির কিছু কার্যকরী উপায় সমূহ। চলুন দেরি না করে শুরু করা যাক।

 

নিজের পরিচিতি বৃদ্ধি করুনঃ
প্রথমেই আপনাকে সবার সাথে পরিচিতি বাড়াতে হবে। আপনার কাস্টমারের সাথে বেশি বেশি পরিচিতি বাড়াতে হবে। আপনার পণ্য সম্পর্কে তাকে আগ্রহী করে তোলার আগে আপনার কাস্টমারকে বুঝতে হবে। গ্রাহক কি ধরনের পণ্য পছন্দ করতে পারে। আপনি যদি একজন গ্রাহক সম্পর্কে জানেন তাহলে আপনি অনুমান করতে পারবেন গ্রাহক আপনার কাছে কি ধরনের পণ্য চায়।

Awareness : 

আপনি যে আছেন, তা সবাইকে জানাতে হবে। আপনি যে এই প্রোডাক্ট নিয়ে কাজ করেন, সেটা সবাইকে জানাতে হবে। নিজেকে সুপার হিরো সাজাতে চেষ্টা করতে হবে।  

Consideration :

আপনি যে আছেন, আপনি এই প্রোডাক্ট নিয়ে কাজ করেন, যখন  এটা সবাইকে জানাতে তখন সেকেন্ড স্টেপ হবে  Consideration. তখন আপনি তার ইমোশনাল হতে হবে। যাতে আপনার ইমোশনালের কারণে তার মধ্যে Consideration তৈরি হয়ে যায়। এমনকি এমন এক পর্যায়ে সে আপনার প্রোডাক্ট বা সার্ভিসটি গ্রহণ করবে। যেমন গ্রাম অঞ্চলে অনেক দোকান আছে, এবং সেখানে অনেক প্রোডাক্ট আছে, কিন্তু কিছু প্রোডাক্ট দেখবেন, লিফলেট আকারে সাজানো আছে। আপনার যে প্রোডাক্ট বা সার্ভিসটি আছে, সেটা একটি ইউনিক সিস্টেমে তাদের কাছে পৌছাইতে হবে। সামনা-সামনি থাকা এক জিনিস, আর আপনার গল্পটি তার মাথায় ঢুকিয়ে দেওয়াটাই সব থেকে বড় জিনিস।

Over Commitment : 

প্রোডাক্ট সম্পর্কে  অতিরিক্ত কমিটমেন্ট দিবেন না। যদি কাস্টমার তা না পায়, তাহলে সে রিপিট কাস্টমার হবে না।

 

কাস্টমারকে সন্তুষ্ট করুনঃ
আপনার কাস্টমার আপনার ঘরের লক্ষী। সুতরাং গ্রাহককে সন্তুষ্ট ও খুশি রাখার চেষ্টা করুন। একজন বিক্রেতার ব্যবহারের মাধ্যমেই কাস্টমার বা অডিয়েন্সের মন পেতে পারেন। সবাইকে হাসি মুখে আপ্যায়ন বা সু-স্বাগত জানাবেন। কাস্টমার অনেক ধরনের প্রশ্ন করতে পারে। আপনাকে তার সন্তুষ্টির জন্য হাসি-মুখে সকল প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। গ্রাহকের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরন করতে হবে। কাস্টমার যেন আপনার প্রতি সন্তুষ্ট থাকে সেই বিষয়ে সর্বদা প্রস্তুত থাকতে হবে।

ভালো করে আগে শুনুনঃ
কাস্টমার বা ক্রেতা আপনার কাছে কি চায় সেটা আগে ভালো ভাবে শুনুন এবং বোঝার চেষ্টা করুন। সব গ্রাহকরাই এক রকম না। কাস্টমার আপনার দোকানে আসলে আপনি এগিয়ে গিয়ে আগে তার কথা শুনবে,  তার  আকাঙ্ক্ষা গুলো মন দিয়ে শুনবেন। তাতে কাস্টমার আপনার প্রতি আকৃষ্ট হবেন।

 পূর্ণ মনোযোগ দিনঃ
যখন একজন  গ্রাহক বা কাস্টমার আপনার কাছে আসবে তখন তার উপর পূর্ণ মনোযোগ দিন, আর  যদি কোন কথা  না বুঝেন তাহলে  বিরক্তি প্রকাশ না করে সুন্দর ও সাবলিল ভাষায়  আবার  জিজ্ঞেস করুন।

 আপনার পণ্য/সেবার মান প্রদর্শন করুনঃ
আপনি যে পণ্যটি বিক্রয় করবেন তার মানের উপর নির্ভর করবে বিক্রয়। বিক্রয় বৃদ্ধির লক্ষে অবশ্যই পন্যের মানের উপর নজর দিতে হবে। যদি পন্যের মান ভালো হয় তাহলে কাস্টমার খুশি হবে এবং সে পুনরাই পণ্যটি ক্রয় করবে। এখানেই শেষ নয়, গ্রাহক বা কাস্টমারের কাছে যদি আপনার  পণ্যের মান ভালো লাগে, সে তখন অন্য আরেকজনকে আপনার পণ্যের কথা বলবে। এভাবেই আস্তে আস্তে আপনার বিক্রয় বৃদ্ধি পাবে।

 বাজারের অবস্থা সম্পর্কে ধারনা রাখুনঃ
আপনার পণ্যটি সম্পর্কে বাজারের সঠিক অবস্থান জানুন। বর্তমান বাজারে আপনার পণ্যটির  কি অবস্থান তা জানার চেষ্টা করুন। এছাড়া  বাজারের অবস্থা আপনার জানা থাকলে  আপনি ভাবতে পারবেন কিভাবে আর কি করলে বিক্রয় বৃদ্ধি সম্ভব। সুতরাং যে যে প্রোডাক্ট বা সার্ভিস নিয়ে কাজ করেন, তাদের বাজার সম্পর্কে আপডেট তথ্য রাখতে হবে।

 গ্রাহকের সাথে নিয়মিত সম্পর্ক বজায় রাখুনঃ
একজন ক্রেতা ঘরের লক্ষী। একজন গ্রাহকের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখুন অফলাইন কিংবা অনলাইনে। এতে আপনার বিক্রয় বৃদ্ধি পাবে।

 আকর্ষণীয় অফার দিনঃ
বিভিন্ন কোম্পানি তাদের বিক্রয় বৃদ্ধির জন্য  পন্যের সাথে আকর্ষণীয় অফার বা গিফটের ব্যবস্থা করে থাকেন । যেমন- একটি কিনলে একটি ফ্রি, অথবা এই পণ্যটি কিনলে সাথে  এটা ফ্রি দেওয়া হবে। এভাবে আরও অনেক কিছুর অফার দিয়ে ক্রেতাকে আকৃষ্ট করে। এতে  তাদের বিক্রয় বৃদ্ধি হয়ে থাকে। ফলে তাদের মুনাফা বৃদ্ধিও পায়। সুতরাং আপনিও আপনার পণ্যের সাথে আকর্ষণীয় অফার দিন।

 বিজ্ঞাপন দিনঃ 
বিক্রয় বৃদ্ধির জন্য বিজ্ঞাপন একটি বড় মাধ্যম। বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে কাস্টমার যে কোন পণ্য সম্পর্কে সহজেই জানতে পারেন। তাইতো এখন বিভিন্ন কোম্পানি তাদের বিক্রয় বৃদ্ধির লক্ষে বিজ্ঞাপনের জন্য কিছু টাকা আলাদা বাজেট করে রাখেন। বিজ্ঞাপন অনেক ভাবেই করা যায়। টিভিতে, রেডিওতে, পত্রিকায় । তবে অনলাইনে বিজ্ঞাপন দেওয়া সব থেকে সহজ। বর্তমানে সবচেয়ে জনপ্রিয় হচ্ছে অনলাইন মার্কেটিং। অল্প খরচে আপনি আপনার পন্যের বিজ্ঞাপন দিতে পারছেন। আর এখন বেশির ভাগ মানুষ অনলাইন থেকে মার্কেট করে থাকেন। সুতরাং আপনার বিক্রয় প্রসারের উদ্দেশ্যে  বিজ্ঞাপন দিন। এতে আপনার বিক্রয় বৃদ্ধি পাবে।

 বিক্রয় কৌশল আয়ত্ত করুনঃ
বিক্রয় বৃদ্ধির জন্য অনেক ধরনের কৌশল আছে। সেগুলো সম্পর্কে আপনার সঠিক জ্ঞান রাখতে হবে। নতুন নতুন কৌশল আপনার বিক্রয় বৃদ্ধির কাজে সহায়তা করবে।

 পণ্য সম্পর্কিত ধারণা নিনঃ
এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে, নেটওয়ার্ক মার্কেটিং পদ্ধতি অনুসরনকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ সাধারণত নতুন ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ পণ্য বাজারজাত করে। সাধারণত সব ধরনের পণ্য সামগ্রীর ব্যাপারে ক্রেতাদের জানা থাকেনা এবং অধিকাংশ পণ্যের গুণাগুন সম্পর্কে ধারনা থাকেনা। ডিস্ট্রিবিউটর ও লিডারদের সব পণ্য সম্পর্কে ভাল ধারনা থাকার জন্য প্রশিক্ষণ গ্রহন করা উচিত। এতে সব প্রশ্নের সঠিক উত্তর দেওয়া সহজ হয়।

 মনোবল বৃদ্ধি করুনঃ
যে কোন কাজের সফলতা অনেকাংশে নির্ভর করে মনোবলের উপর।  দৃঢ় মনোবল দ্বারা অনেক জটিল কাজ সহজে সম্পাদন করা সম্ভব। প্রশিক্ষণ গ্রহনের পূর্বে নেটওয়ার্ক পদ্ধতি সম্পর্কে অনেকেরই স্বচ্ছ ধারনা থাকেনা যার দরুন এ সম্পর্কিত সব কিছুই অসম্ভব মনে হতে পারে। প্রশিক্ষণ গ্রহনের পর মনোবল বেড়ে যায় এবং কাজের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি হয়। সফলতা প্রাপ্তির জন্য মনোবল বৃদ্ধি আবশ্যক। সুতরাং দৃঢ় মনোবল গড়ে তুলুন।

 পন্যের মোড়ক সুন্দর করুনঃ
অনেক কাস্টমার বা গ্রাহক পন্যের মোড়ক কেমন আর তা কতটা আকর্ষণীয় তা দেখে পণ্য ক্রয় করে থাকেন। যা আমরাও তাই করি। যে সমস্ত পন্যের মোড়ক আছে, চেষ্টা করবেন আকর্ষণীয় ভাবে পন্যের মোড়ক তৈরি করতে। যেন প্রথম দেখাতেই পছন্দ হয়ে যায়।

🎲 সব শেষে আপনাকে বিনীত ভাবে অনুরোধ করছি ,  আমাদের এই ছোট্ট উদ্যোগটি  আপনাদের যদি ভালো লাগে তবে সর্বদা আমাদের পাশে থেকে আমাদের সাহস বাড়াতে পোস্ট গুলোতে লাইক, কমেন্ট ও শেয়ার করে আমাদের কাজের স্পৃহা আরো বাড়িয়ে দিতে আপনারা বিশেষ ভূমিকা রাখবেন এবং সেই সাথে আপনার একটি শেয়ার হয়তো আপনার নিকটস্থ কারো জন্য একটি নতুন দরজা খুলে দিতে পারে । সেই আশা বাদ ব্যক্ত করে সবাইকে আবারো ধন্যবাদ দিয়ে বিদায় নিচ্ছি। আল্লাহ হাফেজ।

.

.

আমাদের আরো পপুলার আর্টিকেল

 

2 Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Related Articles

Back to top button
error: Alert: Content is protected !!