Others

বিশ্বের শ্রেষ্ঠ শীর্ষ ধনী তরুন উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক (2021) এর জীবন বৃত্তান্ত

SM ALAMGIR

বিশ্বের শ্রেষ্ঠ শীর্ষ ধনী তরুন উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক

 

নাম ও পরিচিতি

____________________________

নাম :   ইলন ‘রীভ’ মাস্ক

পিতার নাম : এরল মাস্ক [ দক্ষিন আফ্রিকান , পেশায় একজন প্রকৌশলী, বৈমানিক, নাবিক, পরামর্শক এবং প্রপার্টি ডেভেলপার]

মাতার নাম : মায়া মাস্ক, [ কানাডিয়ান , পেশায় একজন মডেল ]

ছোট ভাইয়ের নাম :  কিম্বল । 

ছোট বোনের নাম :  টসকা

 

জন্ম ও শৈশবকাল :

ইলন মাস্কের ১৯৭১ সালের ২৮ জুন, দক্ষিন আফ্রিকার প্রিটোরিয়ায় জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি তাঁর বাল্যকাল তাঁর দুই ভাইবোন কিমবেল ও টসকার সাথে কাটিয়েছেন। ইলন মাস্কের বয়স যখন ১০ বছর, তখন তাঁর বাবা-মায়ের মাঝে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। ছোটবেলা থেকেই অন্তর্মূখী ইলন এই সময়টাতে মন খারাপ ভাব কাটাতে কম্পিউটারের জগতে হারিয়ে যেতেন। প্রোগামিং এর প্রাথমিক বিদ্যা তিনি নিজে নিজেই অর্জন করেন এবং মাত্র ১২ বছর বয়সেই তিনি তাঁর নিজের তৈরী গেম “ব্লাশার” বিক্রির মাধ্যমে সফটঅয়্যার বিক্রেতা হিসেবে প্রথম পা বাড়ান।

 

শিক্ষা জীবন :

ইলন মাস্ক ১৯৮৯ সালে সতের বছর বয়সে মাস্ক কুইন্স ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি এবং বাধ্যতামূলক সামরিক দায়িত্ব এড়ানোর জন্য দক্ষিন আফ্রিকা থেকে কানাডায় যান।

ইলন মাস্ক ১৯৯২ সালে কানাডা ত্যাগ করে আমেরিকায় চলে আসেন পেনসিলভেনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যবসা ও পদার্থ বিজ্ঞান অধ্যয়ন করার জন্য। তিনি অর্থনীতিতে ব্যাচেলর ডিগ্রি অর্জন করার পর পদার্থ বিজ্ঞানে আরেকটি ব্যাচেলর অর্জনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে থেকে যান।

ইলন মাস্ক পেনসিলভেনিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হয়ে জ্বালানী পদার্থ বিদ্যায় পিএইচডি করার উদ্দেশ্যে ক্যালিফোর্নিয়ার স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। সেই সময়েই ইন্টারনেট বিপ্লবের সূচনা হয় এবং এই বিপ্লবের অংশ হওয়ার জন্য মাস্ক মাত্র দুইদিন পিএইচডি প্রোগ্রামে কাজ করার পর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্বেচ্ছায় বের হয়ে যান।

 

বৈবাহিক অবস্থা :

ইলন মাস্ক এখন পর্যন্ত মোট দুইবার বিয়ে করেছেন। ২০০০ সালে তিনি কানাডিয়ান লেখিকা জাস্টিন উইলসনকে বিয়ে করেন যার স্থায়িত্ব ২০১০ সালে অতি তিক্ত একটি বিচ্ছেদের মধ্যদিয়ে শেষ হয়।

পরবর্তীতে সেই বছরই ইলন মাস্ক এর পরিচয় হয় বৃটিশ অভিনেত্রী টালূলাহ রেইলির সাথে। ২০১০ সালেই তাঁরা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। ২০১২তে একবার আলাদা হয়ে ২০১৩ সালে আরেকবার বিয়ে করেন তাঁরা এবং ২০১৬ সালে শেষবারের মত বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে মাস্ক ও রেইলির মাঝে।

২০১৭ থেকে ইলন মাস্ক হলিউড অভিনেত্রী এ্যামবার হার্ড এর সাথে প্রণয়ের সম্পর্ক চালিয়ে যাচ্ছেন।

 

ছেলে-মেয়ে : 

এলন মাস্ক মোট ৬ টি ছেলে সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। ছয়জনই তাঁর সাবেক স্ত্রী জাস্টিন উইলসনের গর্ভে জন্ম নেয়। তাঁর প্রথম সন্তান মাত্র দশ সপ্তাহ বয়সে হঠাৎ করেই এসআইডিএস (নবজাতকদের হঠাৎ করে মৃত্যু ঘটার একটি বিরল রোগ) এ আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। পরবর্তীতে এই দম্পতির দুই বার দুইটি ও তিনটি করে জমজ ছেলে জন্ম নেয়। তার কোন মেয়ে নেই।

 

পেশা :

ইলন মাস্ক একজন  বিনিয়োগকারী, প্রকৌশলী এবং আবিষ্কারক।

 

 

স্পেস এক্স প্রতিষ্ঠা:

ইলন মাস্ক ২০০২ সালে  বানিজ্যিক মহাকাশ ভ্রমণ সেবা প্রদানের জন্য মহাকাশযান তৈরী করার উদ্দেশ্যে স্পেস এক্স কোম্পানী প্রতিষ্ঠা করেন। যদিও তিনি রকেটের সম্পর্কে এর আগে তেমন কিছু জানতেন না। কিন্তু অল্পকিছুদিনের মধ্যেই তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত একজন রকেট বিজ্ঞানীতে পরিনত করেন। তিনি এটা কিভাবে সম্ভব করলেন জানতে চাইলে ইলন মাস্ক বলেন- “আমি (এই বিষয়ে) অনেকগুলো বই পড়েছি।”

ইলন মাস্ক ২০০৮ সালের ভেতরেই স্পেস এক্স একটি সুপ্রতিষ্ঠিত মহাকাশযান প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানে পরিনত হয় এবং আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্রে মালামাল পৌঁছানোর চুক্তি স্বাক্ষর করে ।  যার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় নাসার নিজস্ব মহাকাশযানের পরিবর্তে স্পেস এক্স এর যানে মহাকাশচারী আনা নেয়ার হয় !

ফ্যালকন ৯ রকেট:

২০১২ সালের ২২শে মে ইলন মাস্ক  এবং তাঁর কোম্পানী একটি নামহীন ক্যাপসুল সহ ফ্যালকন ৯ রকেট উড্ডয়ন করে। মহাকাশযানটিতে আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্রে অবস্থানরত মহাকাশচারীদের জন্য ১০০০ পাউন্ড ওজনের রসদ ছিল। কোনও প্রাইভেট কোম্পানীর নির্মিত মহাকাশযানের আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্রে এটিই প্রথম যাত্রা। শোনা যায় এই উড্ডয়নের ব্যাপারে মাস্ক গর্ব  করে বলেছিলেন – “আমাদের এই অর্জনের জন্য আমি নিজেকে খুবই ভাগ্যবান মনে করছি। মনে হচ্ছে যেন আমরা সুপার বোউল জিতে নিয়েছি।

 

 

ইলন মাস্ক ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে স্পেস এক্স আরও একটি মাইলফলক অতিক্রম করে ফ্যালকন ৯ এর মাধ্যমে একটি স্যাটেলাইট মহাকাশে পাঠিয়ে। স্যাটেলাইটটি এতটা দূরত্বে পাঠানো হয় যাতে করে পৃথিবীর নিজের কক্ষপথ ও গতিকে অনুসরন করে চলতে পারে। যাতে কোন সমস্যা না হয়।

ইলন মাস্ক ২০১৭ এর মার্চে স্পেস এক্স এর অর্জনের খাতায় আরও একটি যুগান্তকারী সাফল্য যুক্ত করেন। পূর্বে ব্যবহৃত রকেটের যন্ত্রাংশ দিয়ে তৈরী একটি ফ্যালকন ৯ রকেটের উড্ডয়ন পরীক্ষা সফল ভাবে সম্পন্ন হয় , যা মহাশূন্য যাত্রার জগতে একটি নতুন দ্বার উন্মোচিত করে। এই সফল পরীক্ষার ফলে ভবিষ্যতে মহাশূন্য ভ্রমণ অনেক  কম খরচে সম্পন্ন হবে।

তবে ২০১৭ এর নভেম্বরে ইলন মাস্ক এবং তাঁর কোম্পানীকে বেশ বিপাকে পড়তে হয়েছিল। কোম্পানীর উদ্ভাবিত নতুন “ব্লক ৫ মারলিন” ইঞ্জিন এর পরীক্ষার সময়ে ইঞ্জিনটি বিস্ফোরিত হয়। স্পেস এক্স জানায় যে এতে কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি এবং তাদের ফ্যালকন ৯ রকেটের পরবর্তী প্রজন্মের প্রকল্পগুলোতে এর কোনও বিরূপ প্রভাব পড়বে না।

টেসলার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক:

বিশ্ববিখ্যাত টেসলা মোটরস এর কথা প্রত্যেক গাড়ি প্রেমীরই জানেন। এই অত্যাধুনিক গাড়ি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানটির সহ উদ্যোক্তা, প্রধান নির্বাহী ও প্রধান পন্য পরিকল্পনাকারী হলেন ইলন মাস্ক। কোম্পানীটি শুধুমাত্র সাধারনের ক্রয়সীমায় সেরা গাড়িগুলোই বানায় না, এর সাথে সাধারন ব্যবহার্য ইলেক্ট্রনিক্স, ব্যাটারী এবং সোলার রুফও প্রস্তুত করে।

প্রতিটি পন্যের আইডিয়া সৃষ্টির থেকে শুরু করে ডিজাইন, প্রকৌশল ইত্যাদি সবই ইলন মাস্ক নিজে তত্বাবধান করেন। প্রতিষ্ঠার মাত্র 5 বছরের মাথায় টেসলা বিশ্বের সেরা একটি স্পোর্টস কার “রোডস্টার” বাজারে নিয়ে আসে। মাত্র 3.7 সেকেন্ডের মধ্যেই রোডস্টার 0 থেকে এর গতিবেগ ঘন্টায় 60 কিলোমিটারে নিয়ে যেতে সক্ষম। এছাড়াও গাড়িটি কোনওরকম জ্বালানী তেল বা গ্যাস ছাড়া শুধুমাত্র এর লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারীর ওপর নির্ভর করে 250 মাইল পাড়ি দিতে পারে। ডেইমলারের সাথে ব্যবসায়িক লেনদেন ও টয়োটার সাথে কারিগরী অংশীদারিত্ব নিয়ে 2010 সালের জুনে টেসলা প্রথমবারের মত পাবলিক লিমিডেট কোম্পানী হিসেবে স্টক মার্কেটে নামে অল্প সময়ের মধ্যেই যার মূল্য দাঁড়ায় 226 মিলিয়ন মার্কিন ডলারে।

 

 

 

কোম্পানীর প্রথম ইলেকট্রিক সিডান “Model – S” বাজারে দারুন ভাবে সফলতা লাভ করে। একবার ব্যাটারি ফুল চার্জ হলে এটি 265 মাইল যেতে সক্ষম। মোটর ট্রেন্ড ম্যাগাজিন মডেল S K 2013 সালের সেরা গাড়ির মর্যাদা প্রদান করে।

2017 সালের এপ্রিলে ইলন মাস্ক ঘোষণা দেয় যে, তারা জেনারেল মোটরস কে টপকে আমেরিকার সবথেকে লাভজনক গাড়ি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানে পরিনত হয়েছে। ব্যাপারটি অবশ্যম্ভাবী ভাবেই টেসলার প্রত্যাশা পূরণ করেছিল এবং পন্য প্রস্তুতে আরও গতির সঞ্চার করেছিল যার ফলে ঐ বছরই তারা তাদের “মডেল 3 সিডান” বাজারে আনে।

2017 এর নভেম্বরে ইলন মাস্ক কোম্পানীর ডিজাইন স্টুডিওতে তাদের নতুন দু’টি গাড়ি টেসলা সেমি এবং রোডস্টারের পর্দা উন্মোচন করে আবারও একবার হৈচৈ ফেলে দেন। টেসলা সেমি আসলে একটি সেমি ট্রাক, 2019 সালে যেটির প্রস্তুতের কাজ শুরু হবার কথা রয়েছে – একবার ব্যাটারি ফুল চার্জ দিলে গাড়িটি 500 মাইল পথ পাড়ি দিতে পারবে, এবং সেইসাথে কোম্পানীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে গাড়িটির ব্যাটারি ও মোটর 1 মিলিয়ন মাইল ভ্রমণ পর্যন্ত কোনও সমস্যা ছাড়াই চলবে। রোডস্টারকে ধরা হচ্ছে আজ পর্যন্ত তৈরী হওয়া সবথেকে দ্রুতগামি গাড়ি হিসেবে। মাত্র ১.৯ সেকেন্ড সময়ে এর গতিবেগ প্রতি ঘন্টায় 0 থেকে 60 কিলোমিটারে উঠবে! রোডস্টার  2020 সালে বাস্তবতার মুখ দেখবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন ইলন মাস্ক।

উন্মোচন অনুষ্ঠানে ইলন মাস্ক বলেন – “আমার এই প্রকল্পের একমাত্র উদ্দেশ্য হল খনিজ জ্বালানী চালিত গাড়িকে একটি বড় আঘাত দেয়া। (আমার গাড়ির পাশে) খনিজ জ্বালানীর স্পোর্টসকার চালালে মনে হবে আপনি ডিমের খোসায় তৈরী একটি স্টিম ইঞ্জিন  চালাচ্ছেন।”

 

মোট সম্পদ: 

১৮৫ বিলিয়ন    [তথ্যসূত্র : 7 জানুয়ারী 2021 ]

 

শেষ কথা:

ইলন মাস্ক তাঁর জীবনের কখনই বসে থাকেননি । একের পর এক গবেষণা চালিয়ে গেছেন।  প্রখর প্রতিভাবান ও অসাধারন সফল মানুষটির জীবন থেকে আমরা সবথেকে বড় যে শিক্ষাটি নিতে পারি তা হল , স্বপ্ন যত বড়ই হোক, বিশ্বাসের সাথে কাজ করে গেলে সাফল্য আসবেই। ইনশা আল্লাহ

লেখাটি ভাল লেগে থাকলে লাইক ও কমেন্টের মাধ্যমে আমাদের উ‌ৎসাহিত করুন।  আপনার যদি মনে হয় ইলন মাস্ক এর জীবন থেকে তরুণ উদ্যোক্তারা কিছু শিখতে পারবে, তবে আপনার কাছে অনুরোধ  থাকবে লেখাটি শেয়ার করার মাধ্যমে সবার মাঝে ছড়িয়ে দিন। 

.

.

আমাদের আরো পপুলার আর্টিকেল

 

 

One Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Related Articles

Check Also
Close
Back to top button
error: Alert: Content is protected !!